Sunday, October 16, 2011

শিশুদের কুসুম-কোমল মনে প্রভাব ফেলতে পারে- এমন ছবি বা সংবাদ প্রচার:শেখ হাসিনা

শিশুদের কুসুম-কোমল মনে প্রভাব ফেলতে পারে- এমন ছবি বা সংবাদ প্রচার:শেখ হাসিনা
শিশুদের কুসুম-কোমল মনে প্রভাব ফেলতে পারে- এমন ছবি বা সংবাদ প্রচার না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে একই সঙ্গে শিশুদের সার্বিক উন্নয়নে সবার মন-মানসিকতার পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

আজ সোমবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার সপ্তাহ-২০১০ উপলে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এই আহবান জানান।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০১১ সালের মধ্যে শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসার ল্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। গত বছর প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনামূল্যে ১৯ কোটি বই বিতরণ করা হয়েছে।’ 

শিশুদের আরও বেশিমাত্রায় স্কুলমুখী করতে সামনের বছর বিনামূল্যে ২৩ কোটি বই ১৯ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।

স্কুলে দুপুরে খাবারের ব্যবস্থা করা হলে শিশুরা স্কুলে যেতে আরও আগ্রহী হবে উল্লেখ করে এ বিষয়ে ইউনিসেফের সহায়তা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
এসব উদ্যোগের ফলে প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত শিার্থীর হার বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি শিশুদের জন্য আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে অভিভাবক, সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও শিশু কল্যাণে নিবেদিত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘শুধু আইন ও সনদ দিয়ে শিশুদের সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।’ এজন্য সবার মন-মানসিকতায় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান তিনি।
‘শিশুদের মনে প্রভাব ফেলতে পারে' এমন ছবি বা সংবাদ প্রচার করবেন না’ গণমাধ্যম কর্মীদের প্রতি এ আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘বছরে অন্তত একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন।’
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে কোমলমতি শিশুদের ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদপে নেওয়া হবে।’ দলের নির্বাচনী অঙ্গীকারে শিশুশ্রম বন্ধের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে সব খাত থেকে শিশুশ্রম বিলোপ করব।’ ‘ইতিমধ্যেই শহরাঞ্চলের কর্মজীবী শিশুদের জন্য কর্মভিত্তিক শিা ব্যবস্থা চালু করেছি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিশু অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার জাতীয় শিশু নীতি-২০১০ এর খসড়া প্রকাশ করেছে। সমাজের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে জাতীয় শিশু নীতি চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি বলেন, ‘শিশুরা জাতির বড় সম্পদ। তাদের বেড়ে ওঠার স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে আজকের শিশুই আগামী দিনে দেশ ও জাতির কল্যাণে আত্মনিয়োগ করবে।’ শিশুদের সামনে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে যথাযথ পদপে নেওয়ার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।এছাড়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের প্রতি সবাইকে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তাদেরকে বোঝা হিসেবে না ভেবে সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে। তাদের মানসিক বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।’
সরকারি চাকরিতে প্রতিবন্ধীদের জন্য বয়সসীমা ৪০ বছর নির্ধারণ করার কথা জানান তিনি। নারী শিার উন্নয়নে মহাজোট সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদেক্ষেপর সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টিসহ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।




Tuesday, October 4, 2011

Speech of Sheikh Hasina at UN



প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে ফ্রি টিকিটে হজে গেলেন প্রতারিত ৪৩৫ জন


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নিদের্শে হাজি ক্যাম্পে আটকেপড়া ৪৩৫ জন হজযাত্রী বিনামূল্যের টিকিট নিয়ে সুযোগ পেলেন হজে যাওয়ার। সউদিয়া এরাবিয়ান এয়ারলাইন্সে’র শেষ পর্যায়ের কয়েকটি হজ ফ্লাইট যোগে আটকেপরা হজযাত্রীরা হজে গেলেন।
গতকাল বেলা ২টার দিকে সরকারি উদ্যোগে সানজুরি ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের মাধ্যমে সউদিয়ার হজ ফ্লাইটের ক্রয়কৃত ১৭৪টি টিকিট হাজি ক্যাম্পে পৌঁছলে প্রতারিত পুরুষ-মহিলা হজযাত্রীরা মহান আল্লাহর কাছে প্রধানমন্ত্রীর জন্য হাত তুলে দোয়া করেন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে সউদিয়া এয়ারলাইন্সের সর্বশেষ হজ ফ্লাইট (এস ভি-৫২০৫) ৪৫০জন হজযাত্রী নিয়ে জেদ্দার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।

শিশুরাই দিনবদলের কারিগর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা



শিশুরাই দিনবদলের কারিগর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
 ৩ অক্টোবর ২০১১, ১৮ আশ্বিন ১৪১৮
শিশুদের দিনবদলের কারিগর হিসেবে অভিহিত করে তাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শিশুদের ওপর পাঠ্যপুস্তক বোঝা যেন বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য সবাইকে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক নির্যাতন ও সন্ত্রাসের শিকার যেন শিশুদের হতে না হয়, সে দিকেও দৃষ্টি দিতে বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী সোমবার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে 'বিশ্ব শিশু দিবস ও শিশু অধিকার রক্ষা সপ্তাহ'র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দেশে বিশ্ব শিশু দিবস পালিত হচ্ছে। শিশু অধিকার সপ্তাহের এবারের প্রতিপাদ্য 'তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারে জানবে শিশু জগৎটাকে'।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, "প্রতিটি শিশুর জন্য গড়ে তুলতে চাই আলোকিত নিরাপদ স্বদেশ। আসুন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুন্দর আগামীর জন্য আমরা আমাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করি। আমরা সকলে স্ব স্ব অবস্থান থেকে শিশু অধিকার রক্ষা ও তাদের কল্যাণে কাজ করে যাবো।" দেশকে ভালোবেসে সুনাগরিক হয়ে গড়ে ওঠার জন্য শিশুদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
গৃহে বা শিক্ষাঙ্গনে শিশুরা যাতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার না হয় সে জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সবাকেই আরো যতœবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "শিশু সব সময়ই বন্ধুর মতো আচরণ প্রত্যাশা করে। শিশুদের ওপর অতিরিক্ত বইয়ের বোঝা চাপিয়ে তাদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত করা উচিত নয়।" শিশুর মানসিক বিকাশ ও জ্ঞানচর্চার জন্য প্রযুক্তি শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "প্রত্যেক শিশুর জন্য তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের অবারিত সুযোগ থাকা প্রয়োজন। যার মাধ্যমে তারা গভীরভাবে বিশ্বের অগ্রযাত্রাকে উপলব্ধি করতে পারবে। জ্ঞান-বিজ্ঞান অšে¦ষণে আগ্রহী হবে। আগামী দিনের নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য নিজেদের গড়ে তুলবে।"
"শিশুরাই জাতির ভবিষ্যৎ, বিশ্বের ভবিষ্যৎ। তারাই বিশ্বায়ন ও তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে আগামীতে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে। তারাই হবে দিন বদলের ভবিষ্যৎ কারিগর। তাদের সেভাবে গড়ে তুলতে হবে," বলেন তিনি। সব ধরনের শোষণ ও নির্যাতন থেকে শিশুদের নিরাপদ রাখতে বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "আমরা শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশ চাই। পারিবারিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে শিশুর সমান অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে চাই। আমরা চাই, বৈষম্যহীন শিশুবান্ধব পরিবেশ।"
শিশুদের বিকাশে পরিবারের দায়িত্বের কথাও মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পরপরই তার একটা নাম পাওয়ার অধিকার আছে। দেড় মাস থেকে টিকা পাওয়ার অধিকার আছে। ছয় মাস পর্যন্ত মায়ের দুধ পাওয়ার অধিকার আছে। পাঁচ বছর বয়সে স্কুলে যাওয়ার অধিকার আছে। শিশু অধিকারের বিষয়টি প্রত্যেককে হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করার প্ররামর্শ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, "তাদের না বলবেন না। তাদের সঙ্গে কঠোর আচরণ করাবেন না । এতে তারা ভেতরে ভেতরে গুটিয়ে যাবে।"
শিশুর স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠার জন্য শারীরিক ও মানসিক পরিচর্যার প্রয়োজনীয়তার গুরুত্বের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, "আজ দু\খের সঙ্গে বলতে হয়, ডেভলপারদের বদৌলতে আজ খেলার মাঠগুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। আমরা ঢাকাসহ অন্যান্য শহরে বিদ্যমান পার্ক ও খেলার মাঠ দখলমুক্ত করেছি। এগুলোকে শিশুদের ব্যবহার উপযোগী করা হচ্ছে।"
প্রধানমন্ত্রী শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণে চলচ্চিত্র নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, "আপনারা বছরে অন্তত একটি শিশুতোষ চলচ্চিত্র নির্মাণ করুন। সরকার আপনাদের পাশে থাকবে।" ভীতিকর ছবি বা সংবাদ প্রচার গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিশুদের বোঝা মনে না করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "তারা আমাদের পরিবার ও সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাদের বোঝা ভাবলে চলবে না। তাদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনতে হবে।"
২০০১ সালে নির্বাচন পরবর্তী সহিংহতার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, "অতীতে এদেশের অনেক শিশুকেই রাজনৈতিক নির্যাতন ও সন্ত্রাসের শিকার হতে হয়েছিলো। আমরা সেই অন্ধকার সময়ের পুনরাবৃত্তি দেখতে চাই না।"শিশুদের কল্যাণে নেওয়া সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ, শিশুমৃত্যুর হার কমানো, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরু করার বিয়ষগুলো প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে তুলে ধরেন।
ওসমানী মিলনায়তনে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, ধর্মগ্রন্থ থেকে তিলওয়াত- সব শিশুরাই করেছে। শিশুদের পক্ষ থেকে সারাহ মেহজাবিন ও আবিদুর রহমান দীপ নামে দুটি শিশু বক্তব্যও রাখে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরীণ শারমিন চৌধুরী, ইউনিসেফের আবাসিক প্রতিনিধি ক্যারল ডি রয়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব তারিক উল ইসলাম। বক্তৃতা দেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী দর্শক সারিতে বসে শিশুদের পরিবেশিত অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।